টাকার সঙ্গে পাঠাতেন সুন্দরী মডেলও - Bangla News

Bangladeshi Online News Paper

সংবাদ শিরোনাম

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

টাকার সঙ্গে পাঠাতেন সুন্দরী মডেলও

টেন্ডার মুঘল জি কে শামীমের দরবারে ডাক পড়তো সুন্দরীদের। তারা নাটক, সিনেমার পরিচিত মুখ। নায়িকা, মডেল হিসেবে পরিচিত। নিজের মনোরঞ্জন থেকে শুরু করে টেন্ডার বাগিয়ে নিতে তাদের ব্যবহার করতেন শামীম। উচ্চ পদস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তার নিয়মিত আবদার ছিল, শুধু টাকা দিলেই হবে না, চাই উঠতি বয়সের নায়িকার সঙ্গ। কর্মকর্তাদের কাছে  দীর্ঘ তালিকা পাঠাতেন শামীম। ছবিসহ সেই তালিকা দেখেই বাছাই করে নিতেন মডেল, নায়িকাদের। একইভাবে প্রভাবশালী নেতাদের খুশি করতেও মডেল, নায়িকাদের পাঠানো হতো ফ্ল্যাটে-তারকা হোটেলে। এমনকি দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়া হতো তাদের। বিনিময়ে অল্প দিনেই নায়িকা থেকে অনেকে প্রযোজক হয়েছেন। মালিক হয়েছেন কাড়ি কাড়ি টাকার। হাকিয়ে বেড়াচ্ছেন দামি দামি গাড়ি। জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশের কাছে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে জি কে শামীম ও যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। শামীম জানায়, অনেকেই টাকার সঙ্গে নারীসঙ্গ চাইতো। পাঁচ তারকা হোটেলে কক্ষের ব্যবস্থাও করতে হতো। শামীমের সঙ্গে সখ্যতা অর্ধশতাধিক সুন্দরী তরুণীর। এরমধ্যে এক ডজনেরও বেশি পরিচিত নায়িকা ও মডেল। টেন্ডার বাগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, নেতাদের কাছে পাঠানো হতো তাদের।

গুলশান ও বনানীর একটি তারকা হোটেল ও কাকরাইলের একটি হোটেল ব্যবহার করা হতো একান্তে সময় কাটানোর জন্য। টেন্ডার পাওয়ার পর পার্টি দেয়া হতো। পার্টি হতো দেশে ও বিদেশে। এসব পার্টিতে নিজ দলের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও সহযোগীরা উপস্থিত থাকতেন। পার্টিতে পশ্চিমা পোশাকে হাজির হতেন সুন্দরীরা। মাদকে বুঁদ হয়ে সুন্দরীদের মধ্য থেকে যাকে খুশি কাছে টেনে নিতেন। বেশ কয়েক পার্টি হয়েছে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়। দেশের বাইরের পার্টিতে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন যুবলীগ দক্ষিণের শীর্ষ এক নেতা। কখনও কখনও হাজির হতেন ঢাকা মহানগর যুবলীগের সাবেক প্রভাবশালী এক নেতা ও  সংসদ সদস্য।

কখনও কখনও ব্যক্তিগতভবেই নায়িকা-মডেলদের সঙ্গী করে দেশের বাইরে যেতেন এই দরবারের কর্তারা। এরমধ্যে এক নায়িকা রয়েছেন। যিনি অভিষেকেই শ্রেষ্ঠ নবীন শিল্পী হিসেবে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন লাভ করেন। শামীমের সঙ্গে পরিচয়ের পর দ্রুত ভাগ্য পরিবর্তন হতে থাকে খুলনার এই মেয়ের। শামীমের দরবারের আর্শীবাদের বদৌলতে রাতারাতি বদলে যায় তার আর্থিক অবস্থা। এই নায়িকা গুলশানে একটি ফ্যাশন হাউজ ও ধানমন্ডিতে একটি রেস্টুরেন্টের মালিক হয়েছেন। পাশাপাশি হয়েছেন প্রযোজক। ডেন্টাল কলেজের প্রাক্তন এই ছাত্রী অভিনয় ছাড়াও ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় আত্মপ্রকাশ করেন প্রযোজক হিসেবে। অভিনয় করেছেন ভোজপুরি চলচ্চিত্রেও। পাঁচটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই নায়িকা।

জি কে শামীম তাকে নিয়েই বেশি সময় কাটাতেন। সূত্রমতে, যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতাও এই নায়িকাকে ডাকতেন। ওই নেতার কাছেও পাঠিয়ে দেয়া হতো তাকে। পার্টিতে তাল মিলিয়ে এ্যালকোহল পান করেন এই নায়িকা। প্রকাশ্যেই শামীমকে তুমি বলে সম্বোধন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ কোটি টাকার টেন্ডার বাগিয়ে নিতে সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি কয়েক নায়িকাকে ব্যবহার করেন জি কে শামীম। মোটা অঙ্কের টাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টরা এসব নায়িকা-মডেলদের চাইতেন। অবশ্য এই কর্মে রাতারাতি ভাগ্য বদলেছে নায়িকাদেরও। ওই নায়িকার সঙ্গে গুলশানের একটি তারকা হোটেলে প্রায়ই দেখা যেতো তাদের।

শামীমের প্রতিটি টেন্ডারে মোটা অঙ্কের ভাগ পেতেন যুবলীগের দক্ষিণের শীর্ষ ওই নেতা। ওই নেতার নিজেরও ছিলো সুন্দরী কানেকশন। যদিও তার ঘনিষ্ঠরা জানান, কাউকে ডাকতে হয় না। স্বেচ্ছায় হাজির হন সুন্দরীরা। ওই শীর্ষ নেতার হয়ে এই অপরাধ সাম্রাজ্য দেখাশোনা করতেন মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। তাদের দরবারে প্রায়ই হাজির হতেন পরিচিত এক মডেল, উপস্থাপিকা। অবশ্য চারটি চলচ্চিত্রেও দেখা মিলেছে এই মডেলের। এখন তার যাত্রাপথ চলচ্চিত্র কেন্দ্রিক। নৃত্যে তার রয়েছে ভালো দখল। ওয়ার্ল্ড ডান্স পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে পারফর্ম করেছেন তিনি। আলোচিত এই মডেলের একটি সেলফি বেশ আলোচিত হয়েছিলো। সেলফিতে তার সঙ্গে ছিলো বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনায় অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফ।

সূত্রমতে, ক্যাসিনোতে না গেলেও তারকা হোটেলে ক্যাসিনো হোতাদের আড্ডায় নিয়মিত থাকতেন এই মডেল, উপস্থাপিকা। ঢালিউড কিং হিসেবে পরিচিত নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করার ইচ্ছে এই মডেল উপস্থাপিকার। সেই ইচ্ছে পূরণ করতে হাজির হয়েছিলেন ওই নেতার দরবারে। ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত শেষে দাবি জানিয়েছিলেন শাকিবের সঙ্গে মুভিতে অভিনয় নিশ্চিত করার। তারপর যথারীতি আশীর্বাদও পান। মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয় শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করছেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চলচ্চিত্রটি আর নির্মাণ হয়নি।

এই দরবারের প্রমোদ সঙ্গী হিসেবে পরিচিত আরেক নায়িকা। যিনি রূপালি পর্দায় আসার আগে টিভি নাটকে কাজ করেছেন। মডেল হয়েছেন একটি বিস্কুট কোম্পানী ও একটি জুসের বিজ্ঞাপনে। মডেল হয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী আসিফের একটি গানেও। তিনি ২০১৪ সালে পা রাখেন চলচ্চিত্রে। সেরা নবীন শিল্পী হিসেবে মনোনীত হন বিশেষ একটি পুরস্কারের জন্যও। ওই বছরের শেষেই মুক্তি পায় তার আরও একটি চলচ্চিত্র। এ পর্যন্ত ওই নায়িকা অভিনীত চারটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। শীর্ষ নেতার দরবারে তাকে ডাকা হতো প্রায়ই। দরবারের ডাক এলে যে কাজই থাকুক তা ফেলে ছুটে যেতেন। দরবারের ডাককে আর্শীবাদ মনে করতেন এসব নায়িকা, মডেলরা।

সূত্রমতে, এই দরবারের নেতাদের উৎসাহে দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন এক নায়িকা। ২০০২ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। অশ্লীল জগতের নায়িকা হিসেবে অনেকের মধ্যে একজন হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। আজ থেকে কয়েক বছর আগে শীর্ষ ওই নেতার দরবারে বেশ কদর ছিলো এই নায়িকার। দরবার থেকে ডাক না এলেও নিজ থেকেই যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করেন এই নায়িকা। তবে দরবারের নতুনদের আগমনে ঈর্ষা কাজ করতো পুরাতনদের মধ্যে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন